ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ

হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৬৪¬)

কি বর্ণনা করলেন?

لَئِن لَّمْ يَنتَهِ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْمُرْجِفُونَ فِي الْمَدِينَةِ

যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, যদি এর পরে মুনাফিক্বগুলি বিরত না হয়। আপনাদেরকে কষ্ট দেয় এবং যাদের অন্তরে গালিজ আছে এরা কষ্ট দেয়। এবং যারা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থাকে এরা অপবাদ ছড়ায়, কষ্ট দেয় তাহলে কি হবে?

لَنُغْرِيَنَّكَ بِهِمْ ثُمَّ لا يُجَاوِرُونَكَ فِيهَا إِلاَّ قَلِيلاً

তাহলে অবশ্যই আমি উনাদেরকে সেই অনুমতি মুবারক দিবো, ক্ষমতা মুবারক দিবো। অর্থাৎ উম্মতকে বলা হবে এদেরকে পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে যেন বের করে দেয়া হয়। শুধু বের করে দেয়া না, এরা হচ্ছে কি?

مَلْعُونِينَ أَيْنَمَا ثُقِفُوا

যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হুকুমটা বর্ণনা করলেন। কি বর্ণনা করলেন? এরপরে যদি তারা বিরত না হয় তাহলে তাদের হুকুম হচ্ছে, এরা হচ্ছে লা’নতগ্রস্ত। তাদেরকে যেখানে পাওয়া যাবে

أُخِذُوا

তাদেরকে পাকড়াও করবেন।

وَقُتِّلُوا

টুকরা টুকরা টুকরা করবেন।

تَقْتِيلاً

করার মতো। এদের শুধু মৃত্যুদন্ড দিলে হবে না, কচুকাটা করে টুকরা টুকরা করে এদেরকে মৃত্যুদন্ড দিতে হবে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই যে বিষয়টা বর্ণনা করা হলো,

سُنَّةَ اللهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلُ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّةِ اللهِ تَبْدِيلاً

এটা যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার পূর্বেরই ফায়াসালা মুবারক। এটা কোন পরিবর্তনশীল নয়। হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম এবং হযরত বানাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের শান মুবারকে যারা চূ-চেরা, কীল-কাল করবে তাদের একমাত্র শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!





আর সেটাই মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে দেখা যাচ্ছে, হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন-

أَنَّ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اُمَّ الْمُؤْمِنِيْنَ الرَّابِعَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَتَلَتْ جَارِيَةً لَهَا سَحَرَتْهَا،

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আর রবিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এক দাসি ছিল, যেই দাসিটা উনাকে জাদু করেছিল। জাদু ক্রিয়া করতে পারেনি। কিন্তু তিনি তার শাস্তি দিলেন মৃত্যুদন্ড। তাকে ক্বতল করা হলো। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে দেখা যাচ্ছে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত বানাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কষ্ট দিলেই তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

সেটাই হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লালি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন-

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ آذَى أَهْلَ بَيْتٍ

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন। (একাধিক বর্ণনা।) যে কষ্ট দেয়, মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে

فَقَدْ آذَانِى وَمَنْ آذَانِى فَقَدْ آذَى اللَّهَ وَمَنْ آذَى اللَّهَ فَيُوشِكُ أَنْ يَّأْخُذَهُ

যে আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে কষ্ট দিলো সে যেন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দিলো। আর উনাকে যে কষ্ট দিলো সে যেন যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনাকেই কষ্ট দিলো। আর যে উনাকে কষ্ট দিলো অবশ্যই তাকে পাকড়াও করা হবে। তাকে জাহান্নামে দেয়া হবে। নাউযুবিল্লাহ! এটা পরবর্তীতে কিন্তু জারি ছিলো।