সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক:
মহান আল্লাহ পাক তিনি তওবাকারীকে পছন্দ করেন (১)

মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত সূরা জারিয়াত শরীফ উনার ৫৬নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْاِنْسَ اِلَّا لِيَعْبُدُوْن اَىْ لِيَعْرِفُوْن.

অর্থ: আমি জ্বিন এবং ইনসানকে একমাত্র আমার ইবাদত-বন্দেগী করার জন্য অর্থাৎ মুহাব্বত-মা’রিফত অর্জন করার জন্য সৃষ্টি করেছি।

এই মহাসম্মানিত আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মুহাব্বত-মা’রিফত মুবারক অর্জন করার জন্য বান্দাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।

কিন্তু শয়তান ও নফসের ওয়াসওয়াসার কারণে মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির উদ্দেশ্য পূরণ করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যায় এবং ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় প্রতিনিয়ত গুনাহর কাজ সংঘটিত হয়।

মূলত শয়তান নিজে বিভ্রান্ত এবং সে মানুষকেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত সূরা হিজর শরীফ উনার ৩৯, ৪০নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

قَالَ رَبِّ بِمَا اَغْوَيْتَنِىْ لَاُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِىْ الْاَرْضِ وَلَاُغْوِيَنَّهُمْ اَجْمَعِيْنَ. اِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِيْنَ .

অর্থ মুবারক: সে (শয়তান) বলে, আয় আমার রব! যেহেতু আমি গোমরাহ্ হয়ে গিয়েছি সেহেতু আমি অবশ্যই দুনিয়াতে মানুষের জন্য মন্দ কাজগুলোকে সৌন্দর্যমন্ডিত করবো এবং অবশ্যই তাদের সকলকে বিভ্রান্ত করবো। আপনার মুখলিছ বান্দাগণ ব্যতিত (আর সবাইকে বিভ্রান্ত করবো)। নাউযুবিল্লাহ।

এই মহাসম্মানিত আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, শয়তান মানুষকে বিভ্রান্ত করার কসম করেছে এবং সে অবশ্যই মানুষদেরকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। কিন্তু সে মুখলিছ অর্থাৎ যাদের অন্তর পবিত্র, গাইরুল্লাহ মুক্ত এবং অন্তরে যিকির থাকবে উনাদেরকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।

উল্লেখ্য যে, শয়তানের ওয়াসওয়াসার কারণে কোনো গুনাহর কাজ সংঘটিত হলে তৎক্ষনাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা হিজর শরীফ উনার ৪৯ নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

نَبِّأْ عِبَادِىْ اَنِّىْ اَنَا الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ.

অর্থ: আমার বান্দাদেরকে জানিয়ে দিন, নিশ্চয়ই আমি ক্ষমাপরায়ন, পরম দয়ালু”

শয়তান যে মানুষকে ওয়াসওয়াসা দেয়ার কসম করেছে সে সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

اِنَّ الشَّيْطَانَ قَالَ وَعِزَّتِكَ يَا رَبِىّْ لَا اَبْرَحُ اَغْوِىْ عِبَادَكَ مَا دَامَتْ اَرْوَاحُهُمْ فِىْ اَجْسَادِهِمْ.

অর্থ: হযরত আবু সাঈদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই শয়তান বলে, আয় আমার রব! আপনার ইজ্জত-সম্মানের কছম! আমি আপনার বান্দাদেরকে বিভ্রান্ত করতে ক্ষান্ত হব না, ছেড়ে দিব না, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দেহে প্রাণ থাকে। (অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দেহে প্রাণ থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তাদেরকে বিভ্রান্ত করতেই থাকব)।

শয়তানের এই কথার প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

قَالَ رَبُّ عَزَّ وَجَلَّ وَعِزَّتِىْ وَجَلَالِىْ وَارْتِفَاعِ مَكَانِىْ لَا اَزَالُ اَغْفِرُلَهُمْ مَا اسْتَغْفِرُوْنِىْ.

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, আমার ইজ্জত-সম্মান, জালালিয়াতের কছম এবং উচ্চ মর্যাদার কসম! আমিও তাদেরকে ক্ষমা করতেই থাকব যতক্ষণ পর্যন্তু তারা তওবা-ইস্তেগফার করতে থাকবে।

(মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা শাখা)