একখানা বিশেষ ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারক (৭)
এই প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ‘শিফা’ শরীফ’ উনার মধ্যে রয়েছেন—
اَنَّهٗ كَانَ اِذَا اَرَادَ اَنْ يَّـتَـغَـوَّطَ انْشَقَّتِ الْاَرْضُ فَابْـتَـلَعَتْ غَائِطَهٗ وَبَـوْلَهٗ وَفَاحَتْ لِذٰلِكَ رَائِحَةٌ طَـيِّـبَةٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল গইব মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বড় ইস্তিঞ্জা মুবারক) অথবা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শিফা’ মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোট ইস্তিঞ্জা মুবারক) যমীনে রাখার ইচ্ছা মুবারক করতেন তখন মাটিতে ফাটলের সৃষ্টি হয়ে যেতো, তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল গইব মুবারক অথবা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শিফা’ মুবারক করলে মাটি তা নিজের ভিতর লুকিয়ে নিতো এবং সেই স্থান থেকে শুধু সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়তেন। সুবহানাল্লাহ! (শিফা’ শরীফ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اُمِّـىْ بَـعْدَ اُمِّـىْ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اُمِّ اَيـْـمَنَ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ) قَالَتْ كَانَ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ فَخَّارَةٌ يَّـبُـوْلُ فِـيْـهَا فَكَانَ اِذَا اَصْبَحَ يَـقُوْلُ يَا سَيِّدَتَـنَا حَضْرَتْ اُمِّـىْ بَـعْدَ اُمِّـىْ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ صُبِّـىْ مَا فِى الْفَخَّارَةِ فَـقُمْتُ لَيْـلَةً وَّاَنَا عَطْشٰى فَشَرِبْتُ مَا فِـيْـهَا فَـقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ يَا سَيِّدَتَـنَا حَضْرَتْ اُمِّـىْ بَـعْدَ اُمِّـىْ عَلَيْـهَا السَّلَامُ صُبِّـىْ مَا فِـى الْفَخَّارَةِ فَـقَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ قُمْتُ وَاَنَا عَطْشٰى فَشَرِبْتُ مَا فِيْـهَا فَـقَالَ اِنَّكِ لَنْ تَشْتَكِىْ بَطْـنَكِ بَعْدَ يَـوْمِكِ هٰذَا اَبَدًا
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু আয়মন আলাইহাস সালাম) উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একখানা মাটির পাত্র মুবারক ছিলেন, সেই পাত্র মুবারক—এ তিনি (রাতের বেলায়) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শিফা’ মুবারক রাখতেন। যখন সকাল হতো, তখন তিনি বলতেন, ‘হে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম! মাটির পাত্র মুবারক—এ যা রয়েছেন, তা আপনি ফেলে দিন।’ একরাতে আমি পিপাসার্ত অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে উঠি, ফলে মাটির পাত্রে যা ছিলেন (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শিফা’ মুবারক), আমি তা পান করে ফেলি। সুবহানাল্লাহ! তারপর (সকালে) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে বললেন, হে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম! মাটির পাত্র মুবারক—এ যা রয়েছেন, তা আপনি ফেলে দিন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি পিপাসার্ত অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে উঠেছিলাম, তাই মাটির পাত্র মুবারক—এ যা ছিলেন (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শিফা’ মুবারক), আমি তা পান করে ফেলেছি। সুবহানাল্লাহ! তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন—
اِنَّكِ لَنْ تَشْتَكِىْ بَطْـنَكِ بَـعْدَ يَـوْمِكِ هٰذَا اَبَدًا
‘নিশ্চয়ই আপনি আজকের পর থেকে চিরকালের জন্য আর কখনও পেটের পীড়ায় ভুগবেন না’।” সুবহানাল্লাহ! (আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ)