একখানা বিশেষ ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারক (৪)
তারপর যেমন— হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার একটা বর্ণনা আছে, উনি উনার সম্মানিত বিছাল শরীফের ৩ দিন আগে বলেছেন— ‘আমার সাথে যেই জিনটা ছিলো, ওটা ঈমান এনেছে, মুসলমান হয়ে গেছে।’
উনারটা মুসলমান হয়ে গেছে। এরকম তো আর কারো কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। আর বর্ণনা পেয়েছো কোনো?
তাহলে এখানে যেটা বলা হলো যে, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যেই জিনটা ছিলো, ওটা ঈমান এনেছে।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!
উনার সাথে কাফের থাকে কিভাবে? এই আক্বীদাহ্টা তো কুফরী আক্বীদাহ্। তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভিতরে কোনো নাপাকি আছে? হঁ্যা? না‘ঊযুবিল্লাহ! তাহলে একটা কাফের থাকে কিভাবে?
কাজেই, এটা একটা মওযূ হাদীছ।
এইযে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا
এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার একটা ব্যাখ্যা আছে। ব্যাখ্যাটা হলো—
আমি একখানা স্বপ্ন মুবারক দেখেছি। স্বপ্ন মুবারকখানা হচ্ছেন— “একটা কামরার মধ্যে আমি থাকি। অনেক বড় একটা কামরা। এটা লম্বায় ৩০ থেকে ৩৫ হাত হতে পারে, চওড়ায় ২০ থেকে ২৫ হাত হতে পারে। এর মধ্যে একখানা অনেক উঁচু চকি মুবারক আছেন। সেই উঁচু চকি মুবারক উনার ওপর আমি থাকি। ঐ উঁচু চকি মুবারক উনার কাছে একটা বাঘও থাকে। এটা আমি জানি। তবে, বাঘটা কিছু করে না। বাঘটা থাকে ঠিক মতোই। বাঘটা মোটামুটি বড়সড়ই— ডোরাকাটা বাঘ। ওটা ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাত লম্বা হবে। আর উঁচু হবে ২ হাতের কাছাকাছি। বাঘটা অনেক বড়, মোটাতাজা। একদিন আমি শুয়ে রয়েছি। দেখতেছি— বাঘটা আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত (ক্বদম বা পা) মুবারক উনার দিকে এসে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করছে। তখন আমি চকি মুবারক থেকে নামলাম। আমি বললাম যে, ‘বাঘটা একটা বেয়াদব দেখা যায়। এটা ছিলো, আমরা কিছু বলিনি। তাহলে আজকে এটাকে শাস্তি দিতে হবে।’ আমি লোকজনকে বললাম, ‘আমাকে একটা মুগুড় দাও।’ তারা আমাকে একটা মুগুড় দিলো। তারপর ঐ মুগুড় দিয়ে আমি বাঘটাকে খুব আঘাত করতে থাকলাম। হঠাৎ করে দেখি— ঐ বাঘটা মানুষ হয়ে গেছে! আরে মানুষ হয়ে গেলো! আমি বললাম, ‘বের হয়ে যা এখান থেকে। তুই একটা শয়তান।’ সে বলে যে, ‘না; আমি এখন থেকে যাবো না।’ তারপর আমি এটাকে মারতে মারতে একবারে এক প্রান্তে নিয়ে একদম এটাকে নিশ্চিহ্ন করে দিলাম, মিটিয়ে দিলাম। পরে বুঝলাম যে, এটা আসলে ঐ যে জিনটা, যেটা আমার সাথে থাকার কথা। ঐ জিনটা আমার সাথে থাকতে পারতো না; এটা আলাদা থাকতো। যেহেতু ঐটা আলাদা থাকতো, তাই ঐটা ঐ ছূরতে এসেছিলো। এই জন্য সে বলেছে, ‘সে যাবে না; সে থাকবে।’ এখন যখন এটাকে মিটিয়ে দিলাম— এটা একদম নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো।” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)