মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা বাক্বারা শরীফের ৪৩, ৮৩, ১১০ নং আয়াত শরীফসহ পবিত্র কুরআন শরীফের কয়েক স্থানে ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা নামায কায়েম করো।

প্রাণহীন নামায মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মূল্যহীন। প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণে হাক্বীক্বীভাবে তথা ইখলাছের সাথে নামায আদায় করা এবং উক্ত নামায দ্বারা সমস্ত গুনাহর কাজ থেকে বেঁচে থাকা।

ছাহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, রহমাতুল্লিল আলামীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা বাক্বারা শরীফের ৪৩, ৮৩, ১১০ নং আয়াত শরীফসহ পবিত্র কুরআন শরীফ-এর আরো কয়েক স্থানে ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা নামায কায়েম করো। নামায সম্মানিত শরীয়ত উনার অন্যতম এক ফরয আমল, যা মানুষকে ফাহেশা, হারাম, নাজায়িয ও নাফরমানীমূলক কাজ থেকে বিরত রাখে। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই নামায মানুষকে ফাহেশা এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত রাখে। এবং মহান আল্লাহ পাক উনার যিকিরই সবচেয়ে বড়। তোমরা যা করো মহান আল্লাহ পাক তিনি জানেন। সুবহানাল্লাহ! এই আয়াত শরীফ দ্বারা এই বিষয়টিই প্রতীয়মান হয়, যে ব্যক্তি নামায আদায় করবে তার নামায তাকে সমস্ত গুনাহর কাজ থেকে বিরত রাখবে। এখন দেখা যায়, মানুষ নামায পড়ে আবার গুনাহর কাজও করে থাকে। কারণ নামায সঠিকভাবে আদায় হয় না, তাই নামায দ্বারা ফায়দা লাভ করতে পারে না অর্থাৎ যেসব গুনাহর কাজ থেকে বেঁচে থাকার কথা ছিল, সেসব গুনাহর কাজ থেকে বেঁচে থাকতে পারছে না। সুতরাং নামায কিভাবে আদায় করলে তা সঠিকভাবে আদায় হবে তা জানা জরুরী।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার স্মরণেই নামায ক্বায়েম করো। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণে নামায আদায় করতে হবে, নামাযে দাঁড়িয়ে দুনিয়াবী বিষয় বা গাইরুল্লাহর স্মরণে মশগুল থাকলে নামায সঠিকভাবে আদায় হবে না। যেহেতু নামাযে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণে থাকা হয় না তাই নামায সঠিকভাবে আদায় হয় না। নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় গাইরুল্লাহর ফিকির অন্তরে কেন আসে এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির থেকে গাফিল থাকে তার জন্য আমি একটি শয়তান নির্ধারণ করে দেই। অতঃপর সে (শয়তান) তার সঙ্গী হয়ে যায়। নিশ্চয়ই তারা (সঙ্গী শয়তানরা) তাদেরকে (গাফিল ব্যক্তিদেরকে) মহান আল্লাহ পাক উনার পথে অবশ্যই বাধা দিবে বা তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার পথ থেকে ফিরিয়ে রাখবে। আর (মহান আল্লাহ পাক উনার পথ থেকে সরে গিয়ে) তারা মনে করে তারা হিদায়েতপ্রাপ্ত। নাঊযুবিল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, শয়তান যার সঙ্গী হয়, সে হয় নিকৃষ্ট সঙ্গী। যারা মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির থেকে গাফিল থাকে শয়তান তাদের সঙ্গী হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ-নিষেধ মুবারক পালন করা থেকে গাফিল করে রাখে। এমতাবস্থায় তারা মনে করে যে তারা সঠিক পথেই আছে এবং সঠিক কাজই করে যাচ্ছে। এই নিকৃষ্ট সঙ্গী শয়তানের ওয়াসওয়াসার কারণেই মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণে নামায আদায় করা বান্দাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলশ্রুতিতে তাদের নামায হয় প্রাণহীন। আর প্রাণহীন নামায মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করেন না। যেমনিভাবে মানুষের দেহে প্রাণ না থাকলে সে মানুষটির কোনো ক্বদর বা মূল্য থাকেনা, তেমনই প্রাণহীন নামায মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মূল্যহীন হওয়ার কারণে তা কবুল হয় না এবং এর দ্বারা গুনাহর কাজ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব হয় না। তাই জানা আবশ্যক যে, কার নামাযে প্রাণ রয়েছে।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- প্রাণহীন নামায মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মূল্যহীন। প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণে হাক্বীক্বীভাবে তথা ইখলাছের সাথে নামায আদায় করা এবং উক্ত নামায দ্বারা সমস্ত গুনাহর কাজ থেকে বেঁচে থাকা।

image